
রফতানি খাতের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ১৫০ বিলিয়নের স্বপ্ন! : ক্ষমতায় এসেই রফতানিতে ধস, বিএনপি-জামাতের দায় কতটুকু?
বাংলাদেশের রফতানি খাত এখন হাঁটু পানিতে ডুবছে, আর দায়িত্বে থাকা বিএনপি-জামাত জোট তাদের চিরপরিচিত নীরবতায় মোড়া। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে রফতানি কমেছে, পোশাক খাত মুখ থুবড়ে পড়েছে, কারখানা বন্ধ হচ্ছে রোজ। অথচ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে তারা আবার সেই ২০০১-০৬ সালের অন্ধকার সময়কেই ফিরিয়ে আনতে ব্যস্ত।
দেশের মোট রফতানি ৪৮ বিলিয়ন ডলারে থমকে গেছে, প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। অথচ এই দুর্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো জরুরি বৈঠক নেই, কোনো দিকনির্দেশনা নেই। জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, গ্যাস নেই, ব্যাংক ঋণের সুদে শ্বাসরুদ্ধ শিল্প মালিকেরা। তার ওপর জামাতের ঘনিষ্ঠজনদের দৌরাত্ম্যে ব্যবসায়িক পরিবেশ যেন তাসের ঘর।
ঈদের পরপরই গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়ায় কারখানা বন্ধের খবর যেন রোজনামচা। ইউনিক ডিজাইনার্স বন্ধ হয়ে ১৮০০ শ্রমিক পথে, লিথী গ্রুপের পাঁচ কারখানা বন্ধ, ইসলাম গার্মেন্টস তালা মেরেছে। অথচ শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে সরকার যেন পাথরের মূর্তি। জামাতের শ্রমিক সংগঠনগুলোও যেন বধির, কারণ তাদের আনুগত্য মালিকপক্ষের দিকে, শ্রমিকের দিকে নয়।
এক বছরে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, সুতার দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ, রাসায়নিকের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়েছে। অথচ ক্রেতারা দাম বাড়াতে নারাজ। উল্টো বিএনপি-জামাত সরকার ব্যবসাবান্ধব কোন নীতি দিয়েছে? জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে, গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, ব্যাংক ঋণের সুদের বোঝা চাপিয়ে তারা যেন শিল্পকে শেষ করার মিশনেই নেমেছে।
মনে পড়ে ২০০১-০৬ সালের সেই সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর লুটপাটের কথা? আবার সেই একই চিত্র। তখনও বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, তখনও জামাতের দোসররা অর্থনীতির সর্বনাশ করেছিল। আজ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বিশ্ববাজারে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার কাছে আমরা পিছিয়ে পড়ছি, কারণ সেখানে স্থিতিশীলতা আছে, আমাদের এখানে আছে অনিশ্চয়তার রাজত্ব।
অর্থনীতি চলে আস্থার ওপর। আর বিএনপি-জামাত জোট ব্যবসায়ী, শ্রমিক, উদ্যোক্তা সবার আস্থা নষ্ট করে ফেলেছে। লাভ নয়, অনেক কারখানা চলছে শুধু কর্মসংস্থান বাঁচাতে। নতুন বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ। যে দেশে পোশাক খাতই ৮০ শতাংশ রফতানি আয় জোগায়, সেখানেই যদি এই দুরবস্থা হয়, তাহলে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের যে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে তা নিছক প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।